LATEST UPDATE

গৃহবধূর মৃত্যু, যাবজ্জীবন স্বামী, শাশুড়ি ও দেবর

আগরতলা ১২ জুলাই (এ.এন.ই): পণের দায়ে রাজ্যে আরেক গৃহবধূর মৃত্যু। গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগে অভিযুক্তদের আদালত যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দেয়। জানা গেছে, ধর্মনগর জেলা ও দায়রা বিচারক গৌতম সরকার এই রায় দেয়। রায়ে গৃহবধূ মমতা মালাকারের স্বামী, শাশুড়ি এবং দেবরকে বিচারক গৌতম সরকার যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দেন। ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, কয়েক বছর আছে সামাজিকভাবে ধর্মনগর থানাধীন পশ্চিম চন্দ্রপুর গ্রামের হরিতলার বাসিন্দা বিপিন মালাকারের মেয়ে মমতা মালাকারের (২২) সাথে কামেশ্বর গাঁওসভার সঞ্জয় কলোনির বাসিন্দা রঞ্জিত মালাকারের পুত্র রাজীব মালাকারের সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের হওয়ার পর প্রথমদিকে তাদের বৈবাহিক জীবন খুবই ভালই চলছিল। জানা গেছে, বিয়ের এক বছরের মাথায় তাদের একটি পুত্র সন্তান হয়। এরপরই সংসারে শুরু হয় নানান ঝামেলা। প্রায় প্রতিদিন স্বামী স্ত্রীর মধ্যে চলত ঝগড়া। শেষপর্যন্ত তাদের মধ্যে ঝামেলা দিনের পর দিন বাড়তে শুরু করলো। আর এর পেছনে গৃহবধূ মমতার শাশুড়ি এবং দেবরের অনেকটা হাত ছিল। শেষ পর্যন্ত ২০১৫ সালে আগস্টের ৪তারিখ গৃহবধূ মমতা মালাকারের ঝুলন্ত মৃতদেহ তার শ্বশুর বাড়ি থেকে উদ্ধার 'করা হয়। যদিও এ বিষয়ে মমতার শ্বশুর বাড়ির লোকেরা মমতা ফাঁসিতে আত্মহত্যা করেছে বলে জানিয়েছিল। কিন্তু মমতার বাপের বাড়ির 'লোকেরা তারা কিছুতেই মানতে রাজি হয়নি যে তাদের আত্মহত্যা করেছে। তাদের দাবি মমতার শ্বশুরবাড়ির লোকেরাই পরিকল্পিত ভাবে মমতাকে খুন করেছে। শেষ পর্যন্ত মমতার দাদা বাপ্পা মালাকার তার বোনকে হত্যা করেছে এই অভিযোগে বোনের শ্বশুর বাড়ির স্বামী, শাশুড়ি এবং দেবরের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন। সেই অভিযোগে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় মামলা রুজু করা হয়। এবং শুরু হয় তদন্ত। তদন্তের শেষে এস আই অমলেন্দু ধর আদালতে চার্জশিট জমা করে। শুরু হয় বিচার ব্যবস্থা। দীর্ঘ ৩ বছর ধরে বিচার চলার পর বৃহস্পতিবার ধর্মনগর জেলা ও দায়রা বিচারক গৌতম সরকার গৃহবধূ মমতা মালাকারকে হত্যা করার অভিযোগে অভিযুক্ত স্বামী, শাশুড়ি এবং দেবরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেন বলে জানা গেছে।      

আরো পড়ুন

Advertisement