24.54 C
Clouds



এই খবরের কোনো ভিডিও নেই |

ইম্ফলের মেয়ে চানুর হাত ধরেই টোকিও-তে সূর্যোদয় ভারতের

খেলা



July 25, 2021, 9:39 p.m.
আগরতলা, ২৫/০৭/২০২১ (তথ্য সংগ্রাহক - শ্রুতি দত্ত):- 

অবশেষে ২১ বছরের অপেক্ষার অবসান। ৪৯ কেজি বিভাগের রুপো জিতে মীরাবাঈ চানু তখন সারা ভারতের সঙ্গে নিজেও লাফিয়ে উঠেছিলেন আনন্দে। কারন তার হাত ধরেই ভারত প্রথম ভার উত্তোলনের পদক জিতে ছিল সেই ২১ বছর আগে সিডনিতে। তারপর লম্বা সময়ের অপেক্ষা। সব থেকে বড় কথা কর্ণম মালেশ্বরীর সেই ব্রোঞ্জ পদককে এদিন রুপোতে পরিণত করলেন চানু। যাকে ভারোত্তোলনের জন্য সেরা মুহূর্ত বলে বর্ণনা করেছেন মালেশ্বরী নিজেই। তার বক্তব্য, "আজ প্রত্যেকে খুশি। সত্যি কথা বলতে কী আমাদের ভারত্তোলকদের জন্য বিশাল মুহূর্ত একটা। দ্বিতীয় পদকটার জন্য ২১ বছর অপেক্ষা করতে হল"। তিনি মনে করেন, 'ভারত্তোলনে ভারতের ভবিষ্যৎ সত্যিই উজ্জল। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতীয় লিফটাররা নিয়মিত ভালো ফল করছে। এইবার অলিম্পিক পদক আসায় তাঁদের আরো ভালো করতে উৎসাহিত করবে। জুনিয়াররা বিশ্বাস করতে শুরু করবে যে আমরাও চেষ্টা করলে পদক জিততে পারি'।

তেলুগু এই‌ অ্যাথলিট এখন দিল্লিতে থাকেন। তার ধারণা মীরাবাঈ এর লক্ষ্য স্থির রাখা এবং বিভিন্ন বড় বড় প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়াই তাঁকে এই সাফল্য এনে দিয়েছে, রিওতে ব্যর্থ হওয়া সত্ত্বেও। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, 'রিওরটা দুর্ভাগ্যজনক ছিল। কিন্তু সেখান থেকেও সে দ্রুত বেরিয়ে এসে নিজের পারফরম্যান্সের দিকে বাড়তি নজর দিতে শুরু করে। নিয়মিত ভালো ফল করছিল আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে। এটা ওর কাছে লেগেছে। খুব ফোকাসড নিজের পারফরম্যান্সের প্রতি যা ওকে বাড়তি সাহায্য করেছে। মীরাবাঈ খুব ঠান্ডা মাথায় নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। এরকম একটা বড় মঞ্চে সবসময়ই বাড়তি চাপ থাকে। কিন্তু সেই চাপটা ও নিজের মধ্যে চেপে বসতে দেয়নি একেবারে। তিনি যে শুরু থেকে এদিন পর্যন্ত প্রতিটি মুহূর্তে তাঁর উত্তরসূরিকে নজরে রেখে গিয়েছেন, তা প্রতিটি কথার মধ্যে পরিষ্কার। প্রত্যেকটি সফল মানুষের পেছনে থাকে ব্যর্থতার গভীর ইতিহাস। 

 

মনিপুরের প্রত্যন্ত গ্রাম নংপক কাকচিং। ইম্ফল থেকে বেশ খানিকটা ভিতরে। সেই গ্রামে ৬ সন্তানকে নিয়ে বাস কৃষিজীবী সাইখোম কৃতি মিতেই ও সাইখোম ওঙ্গবি তোম্বি লেইমার। রুজিরোজগারের প্রয়োজনে সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে যেতে হত কাঠ কুড়াতে। বাবা-মায়ের কষ্ট লাঘব করতে ঘাড়ে করে কাঠ কুড়িয়ে আনতেন মীরাবাঈ চানু। কৃতি-তোম্বির ছয় সন্তানের কনিষ্ঠতম। তার কৃতিত্বে গর্বের শেষ নেই বাবা-মায়ের। টোকিও গেমসে পদক জয়ী কন্যার কথা বলতে গিয়ে আবেগে ভাসলেন চানুর মা তোম্বি দেবী। বলেছেন 'আমার বাকি সন্তানরা যখন পড়াশোনা করত তখন আমাদের কষ্টের কথা ভেবে মাথায় করে কাট বয়ে আনতো মীরাবাঈ। প্রতিদিন সকালে তিন-চার ঘণ্টা বিকেলেও তাই। আমাদের বোঝা কমাতে ও নিজের কাঁধে দায়িত্ব তুলে নিয়েছিল। 'আজকে মনে হচ্ছিল, গোটা দেশের দায়িত্ব যেনও নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে'। সংসার চালাতে চাষের ফাঁকে মীরাবাঈ এর বাবাকে রাজমিস্ত্রির কাজ করতে হত। মা চালাতেন চায়ের দোকান।পয়সা জমিয়ে ছোট বোনকে ট্রেনিংয়ে সাহায্য করতেন বড়ভাই বোনেরা। লড়াইটা তাই শুরু থেকে মজ্জায় মীরাবাঈয়ের। অথচ রিও অলিম্পিকে ব্যর্থতার ধাক্কায় বিপর্যস্ত সেই লড়াকু মেয়েটাই একদিন খেলা ছেড়ে দিতে চেয়েছিল। বুঝিয়েছিলেন তাঁর মা। পাঁচ বছর আগের প্রসঙ্গ তুলে তোম্বি দেবী বলেছেন, "রিও-তে খারাপ ফলে ও মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছিল। খেলা ছাড়তে চেয়েছিল। ওকে বুঝেছিলাম যে, আমরা ওর পাশে আছি। হাল ছাড়লে চলবে না"।

 

২০১৬ সালের রিও যাওয়ার আগে নিজের গয়না বেচে একজোড়া কানের দুল মেয়েকে উপহার দিয়েছিলেন তোম্বি দেবী। ব্যর্থতার যন্ত্রণায় তার কথা ভুলে গিয়েছিলেন মীরাবাঈ ও তোম্বি দেবী। পাঁচ বছর পর সেই রিং কানে অলিম্পিকে পদক হাতে দাঁড়ালেন চানু। আবেগ, আনন্দে তখন চোখের জলে ভাসছে তার পরিবার। আবেগবিহ্বল তোম্বি দেবীর কথায়,'কানের দুল তৈরি করেছিলাম ওর জন্য সেটাও রিও অলিম্পিক এর সময়। সেটার কথাও ও ভোলেনি। টোকিও যাওয়ার আগে মীরাবাঈ বলেছিল পদক নিয়ে ফিরবে। ও সেই কথা রেখেছে'। তার জয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী টুইটারে লিখেছেন। "এর চেয়ে বেশি আনন্দের কিছু হতেই পারে না, ভারতের সম্মান বাড়িয়ে দিলেন চানু ভারোত্তোলন রুপা জয়ের জন্য আপনাকে শুভেচ্ছা, আপনার সাফল্য ভারতীয়দের অনুপ্রাণিত করবে"। 

 

টোকিও অলিম্পিকে মীরাবাঈদের ইভেন্ট চাক্ষুষ করতে মানুষের ঢল নেমেছিল চানুর ভিটেয়। সবাই যাতে খেলা দেখতে পারেন তাই ঘর থেকে টিভি বের করে রাখা হয়েছিল বাড়ির বারান্দায়। গ্রামের মেয়ের হাতে পদক উঠতেই খুশির উৎসবে মাতোয়ারা গোটা নংপক কাকচিং এবং আসমুদ্রহিমাচল ভারত। এবার গর্বের মেয়েকে বরণ করে নেওয়ার পালা। তার অভ্যর্থনায় মেয়ের পছন্দের রান্না সাজাচ্ছেন তোম্বি দেবী। তিনি বলেছেন মেইতি জাতীয় খাবার ওর খুব পছন্দের। ওর জন্য পাক নাম (মাছের পদ) ইরোম্বা(শাকসবজির পদ) আর কাংসই (শাকসবজির স্টু) বানাবো' তোম্বি দেবীর অপেক্ষার আর তর সইছে না গোটা দেশের। মীরাবাঈ চানুর হাত ধরে অলিম্পিকে ভারতের জয়ের দৌড় শুরু হলো।




পক্ককপাতিত্ব নয়, সোজা সাপ্টা খবর |

© Copyright, 2021 Agartala News Express. All Rights Reserved. Developed and Maintained by Chevichef Private Limited.

Images published in the Image Gallery are subjected to Copyright of the photographer under The Copyright Act, 1957 of the Republic of India. Any unauthorized use of any image is prohibited.